লক্ষ্য পাহাড়সম, যেখানে বাংলাদেশ ভেঙে পড়ল শুরুতেই। একের পর এক ব্যাটারের ফিরতি আর ড্রেসিংরুমের লালবাতি—সব মিলিয়ে ম্যাচের রূপটা যেন প্রথম পাওয়ার প্লেতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাওহীদ হৃদয় একাই লড়ে গেছেন শেষ পর্যন্ত, করেছেন ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ঝলমলে ৮৩ রান। কিন্তু বাংলাদেশকে বাঁচানোর মতো দৃঢ়তা আর কোথাও পাওয়া গেল না। ফল ১ম টি–টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩৯ রানের বড় হার।
আয়ারল্যান্ড রীতিমতো লজ্জায় ফেলল বাংলাদেশকে। ঘরের মাঠে নাস্তানাবুদ হতে হলো লিটন দাসদের। তাওহীদ হৃদয় একাই লড়লেন, তবে ক্রিকেটটা তো এগারোজনের খেলা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই ৩৯ রানে হারল বাংলাদেশ। তাই প্রশ্ন ম্যাচের আগের দিনে অধিনায়কের করা ওমন বেফাঁস মন্তব্যটাই কি কাল হয়ে দাঁড়াল?
টসে অবশ্য জিতেছিল বাংলাদেশই। প্রত্যাশিতভাবে লিটন বেছে নিয়েছেন ফিল্ডিংটা। তবে বোলাররা অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন না। আইরিশ ব্যাটাররা যেন চেপে বসলেন শরিফুল-নাসুমদের ঘাড়ে। হ্যারি টেক্টরের ৬৯ রানের ইনিংস, আর বাকিদের সম্মিলিত প্রয়াসে আইরিশরা স্কোরবোর্ডে তোলে ১৮১ রান।
এই রান চেজ করাটা খুব একটা সহজ না। জিততে হলে বিশেষ কিছু করতে হতো। বাংলাদেশের ব্যাটাররা বিশেষ কিছু করলো বটে। পাওয়ার প্লেতে মোটে ২০ রান তুলল বিনিময়ে হারাতে হলো চার চারটি উইকেট। তামিম, লিটন, ইমন, সাইফরা যেন গেলেন আর এলেন।
ম্যাচের আর কিছু যে বাকি ছিল না তা পরিষ্কার হয়ে গেল তখনই। তবে ভগ্নস্তুপে দাঁড়িয়ে একটা শেষ চেষ্টা চালালেন কেবল তাওহীদ হৃদয়। জাকের আলীর সামনে সুযোগ থাকলেও তিনি আর পেরে ওঠেন আইরিশ বোলারদের দাপটে। হৃদয়ের ৮৩ রানের ইনিংসটা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেমেছে ১৪২ রানে।
বিশ্বকাপের আগে আরও এক বেহাল দশার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক লিটনের সাথে নির্বাচকদের প্রকাশ্য দ্বন্দ, ধুকতে থাকা ব্যাটিং লাইনআপ সবমিলিয়ে যেন এক করুণ অবস্থা বাংলাদেশের।




