নাইম শেখ কোটি টাকার ক্রিকেটার। বিপিএল শুরুর আগে সবাই বলেছিল, নাইম শেখের দাম কোটি টাকা!! এ আবার হয় নাকি? বিপিএলে চট্টগ্রামের হয়ে নাইম শেখের গেল দুই ম্যাচের পারফমেন্স চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সমালোচকদের। বুঝিয়ে দিয়েছেন কোটি টাকা তারই প্রাপ্য, তিনিই সবচেয়ে যোগ্য ব্যাক্তি।
বিপিএলের সর্বশেষ সংস্করণে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন নাইম। ১৪ ম্যাচে ৪২.৫৮ গড়, ১৪৩.৯৪ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৫১১ রান। সে কারণেই বিপিএলের এবারের নিলাম ঘরে ঝড় তুলতে পেরেছিলেন নাঈম শেখ। প্রথম ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ১১, রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩৯ রানে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই বাঁ হাতি ওপেনার। তৃতীয় ম্যাচে এসে ঢাকা ক্যাপিটালসকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে ফিরে পেয়েছেন ছন্দ। ৩৩ বলে ফিফটি, ৭ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় হার না মানা ৫৪ রানে চিনিয়েছেন নিজেকে।
নাইমের ব্যাটে ভর করে বিপিএলে দাপট দেখাচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। মৌসুমের শুরুর দিকে আগোছালো দলটি নিজেদের ফিরে পেতে সময় নেয়নি। প্রথম ৩ ম্যাচে ২ জয় তুলে নেওয়া চট্টগ্রাম চতুর্থ ম্যাচেও পেয়েছে দারুণ জয়। চট্টগ্রাম জয় পেয়েছে মূলত দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও বিদেশি ক্রিকেটার অ্যাডাম রসিংটনের ব্যাটিংয়ে। দুইজনই পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরি। তবে নাইমের ইনিংস্টা অন্যভাবে নজর কেরেছে সবার। আর এ জন্যই হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
তিন ছয় ও চার চারে আজ নাইম করেছে ৩৭ বলে ৫২। স্টাইক রেট ১৪০ এর একটু বেশি। নাইমের ব্যাট যেদিন হাসে সেদিন আর চিন্তা করতে হয় না টীম ম্যানেজমেন্টকে। পরপর দুই ম্যাচে করেছেন অর্ধশত, দলের হয়ে ভরসার প্রতিদান দিয়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। রক্ষনশীল এবং দায়িত্তশীল ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন চট্টগ্রাম সমর্থকদের।
বিপিএল এর প্রস্তুতিটা ঘরের মাঠে বসে আগেভাগেই সেরে ফেলেছিলেন নাইম। নেপাল প্রিমিয়ার লিগ (এনপিএল) থেকে প্রস্তাব পেয়েও সেখানে খেলতে যাননি নাঈম শেখ। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, তখন চলছিল এনসিএলের চারদিনের আসর। এর আগে এনসিএল টি-টোয়েন্টিও খেলেছেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি পারিশ্রমিকের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত ভিনদেশি লিগের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন নাঈম।
তবে বিপিএলে দামি হয়েও অহংকার নেই নাইমের, নিজেকে এতো ‘দামী খেলোয়ারো ভাবেনও না। তিনি জানেন দামি ক্রিকেটার হওয়ায় প্রত্যাশার চাপ থাকবে তার উপরে, আর তাইতো সমস্ত মনযোগ নাইমের মাঠের পারফরমেন্সে। নাইম অবশ্য আগেই জাইয়েছিলেন দাম কম হলেও মাঠের খেলায় তার নিবেদন বা ডেডিকেশনে কোনো কমতি থাকবে না। পেশাদার ক্রিকেটে তিনি বহুদিন ধরে আছেন, তাই দায়িত্ববোধটা হয়ত ভালই বোঝেন। তবে এটা এখন পরিস্কার, নাইমের লক্ষ্য একটাই—গত সিজনের মতো এবারও রান করা এবং দলকে জেতানো।
চট্টগ্রামের বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সের ম্যাচ উপলক্ষে গতকাল সিলেট দলটার উপদেষ্টা বলেছিলেন মাঠে বসে খেলা দেখবেন তিনি। মাঠে বসে সিলেটকে জিতিয়েই ঘরে ফিরবেন। তবে সেটা আর হতে দেন নি নাইম শেখ, সিলেটের প্রধান উপদেস্টার মন ভেঙ্গে দিয়েছেন। তবে সিলেটের সমর্থকদের মন ভেঙ্গে দিলেও হাঁসি ফুটাতে পেরেছেন চট্টগ্রাম দর্শকদের মুখে। নাইমের এমন পারফরমেন্স হয়ত আরও বেশি করে দেখতে চাইবে চট্টলা বাসি।
দিপ্ত পাল সি স্পোর্টস, সিলেট


