বলা হয়, ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স দিয়েই জাতীয় দলে ঢোকেন ক্রিকেটাররা৷ এবারের বিপিএলে দারুন ছন্দে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চলতি বিপিএলের একমাত্র সেঞ্চুরিও এসেছে তার ব্যাট থেকে। তবু টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আজ যে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ তাতে জায়গা হয়নি শান্তর।
বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার পরেই তাই আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে শান্ত। কেন তিনি বিশ্বকাপ দলে নেই? দলে থাকতে পারতেন কিনা এমন আলোচনায় সরগরম ক্রিকেট পাড়া।
জাতীয় দল আর টি টোয়েন্টি দুই জায়গাতে যেন শান্তর ভিন্ন রুপ। জাতীয় দলের হয়ে টি টোয়েন্টিতে ৪৮ ইনিংসে শান্তর রান ৯৮৭ । স্ট্রাইকরেট ১০৯.০৬। সর্বশেষ টি টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২৫ সালের ১৯ মে। শারজাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সেই ম্যাচে করেন মাত্র ২৭ রান। এরপর আর জাতীয় দলে টি টোয়েন্টিতে সুযোগ পাননি তিনি।
তবে চলমান বিপিএলে দারুণ ছন্দে শান্ত। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে প্রথম ম্যাচেই করেন সেঞ্চুরি।
চার ম্যাচে ২০৩ রান করে বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি । শান্তর গড় ৬৭.৬৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪৭.১০।
টি টোয়েন্টি মানেই চার, ছক্কার খেলা। শান্ত এবার বিপিএলে ১৯ টা চারের সঙ্গে মেরেছেন ৯ টি ছক্কাও। বোঝাই যাচ্ছে টি টোয়েন্টিতে দারুন ছন্দে আছেন তিনি। দুর্দান্ত এই পারফরম্যান্সের জন্যই হয়ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে থাকার স্বপ্নও দেখেছিলেন । তবে শেষ পর্যন্ত সুযোগ পাননি
ঘরোয়া লীগের ফর্ম যদি দলে ফেরার মানদণ্ড হয় তবে কেন দলে সুযোগ পেলেননা শান্ত ? বিসিবির এক সূত্র দেশের প্রথম শ্রেনীর এক দৈনিক পত্রিকাকে জানায়
শান্তকে দলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল বিসিবির। তবে টি-টোয়েন্টি দলে তার তিন নম্বর পজিশনটি অধিনায়ক লিটন দাসের জন্য নির্ধারিত। চার নম্বরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে পারভেজ হোসেন ইমনকে।তাই শান্তের জন্য সুযোগ থাকছে তাই ওপেনিংয়ের।কিন্তু ওপেনিং পজিশনেও আপাতত নির্ভরতা রাখা হয়েছে তানজিদ হাসান তামিম ও সহ-অধিনায়ক সাইফ হাসানের ওপর। যদিও বিপিএলে এখন পর্যন্ত শান্ত এই দুজনের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
তানজিদ তামিমের চার ইনিংসে রান মাত্র ৬১, আর সাইফ তিন ম্যাচ খেলেও মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে।
তবু নির্বাচকরা সম্ভবত গত বছর জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তাদের পারফরম্যান্সকেই বিপিএলের ফর্মের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে বিসিবির আরেকটি সূত্র জানায়, শান্তর নাম দলে নাম লিখিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট। এই জন্যই শান্ত বিশ্বকাপ দলে নেই।
টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত। সেই সঙ্গে চার ম্যাচ শেষে দলকে নিয়ে গেছেন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও। ইনিংসের শেষদিকে শান্ত বোলারদের যেভাবে ব্যবহার করেছেন তার প্রশংসা করেছেন রাজশাহীর কোচ হান্নান সরকার।
তাই শেষ পর্যন্ত শান্তর বিশ্বকাপ দলে না থাকা অনেকের কাছে বিস্ময় হয়ে এসেছে।তবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। যদি বিপিএলে ওপেনাররা ব্যর্থ হয় আর শান্ত ধারাবাহিকভাবে বড় রান করেন, তাহলে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ দলে ফিরতেও পারেন শান্ত।
দিবাকর বিশ্বাস, সি স্পোর্টস, ঢাকা।


