মইন আলি, সিলেটি দামান। মইন মাঠে ব্যাটিঙয়ে থাকলে কিংবা বল করলেই গ্যালারি থেকে শোনা যায় দর্শক স্লোগান। দুলাভাই দুলাভাই। আজ ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করেছে সিলেট। ওদের ব্যাটিং এর সময় বিশেষ করে ১৮ তম ওভারের শুরু থেকেই এই স্লোগান আজ শোনা গেছে আরও উচ্চস্বরে। কেনই বা হবে না নাসিরের অই ওভারে সিলেট স্টেডিয়ামে যে উঠেছিল মইন ঝড়।
সম্প্রতি বাংলাদেশের এক গণমাধ্যমে মইন আলি বলেছিলেন, সিলেটে এসে প্রথম ম্যাচেই মাঠে বসে দুলাভাই স্লোগান শুনেছে তিনি। ব্যাপাটাও বেশ দারুণ লেগেছে তার। একসাথে এত মানুষের মুখে এই প্রথম তাকে এইভাবে সম্বোধন করা হল। সিলেটি মানুষদের ভালোবাসার যে সিক্ত মইন আলী। তবে প্রত্যাশার চাপও নিশ্চয়ই কাজ করছে মইনের কিন্তু সেসব তিনি ভাল ভাবেই সামাল দিতে জানেন।
নাসির হোসেনের যে ওভাটিতে মইন আলী আজ তাকে তুলোধুনো করেছেন, তার আগে নাসির করেছিল তিন ওভার। রান দিয়েছিলেন মাত্র সাত। মানে তখন পর্যন্ত নাসির ছিলেন ঢাকার সবচেয়ে কিপটে বোলার। তবে মইন আলী নাসিরের অই এক ওভারে ২৮ রান নিয়ে নাসির হোসেনকে পায়িয়েছেন দিতিয় সরবোচ্চ খরুচে বোলারের তকমা। নাসিরের অই ওভারে মারেন ৩ টি ওভার বাউন্ডারি ও ২ টি বাউন্ডারি। আর এরপরই স্টেডিয়ামের জনস্রোত শুরু করে মইন বন্দনা।
১৮ ওভার শেষে সিলেট টাইটান্সের রান ছিল ৫ উইকেটে ১৩৫। মইন আলীর ব্যাটিং আগ্রাসনে শেষ দুই ওভারে সিলেটের স্কোরবোরডে জমা হয় ৪৫ রান। মঈনের এই শেষের ক্যামিওতে ভর করেই ৬ উইকেটে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি দাঁড় করিয়েছে সিলেট। শেষ ওভারে ৮ বলে ২৮ রানে সমাপ্তি হয় মইনের আগ্রাসি ইনিংসের।
এদিন বল হাতেও সিলেটি দামান আগ্রাসন দেখিয়েন, ছিলেন অত্যান্ত ইকোনমিকাল। মাত্র ৫ ইকোনমিতে বল করে দিয়েছেন মাত্র ২০ রান, ঝুলিতে পুরে নিয়েছেন ক্যাপ্তেন মোহাম্মদ মিথুন ও উড়তে থাকা শামীম হোসেন পাটোয়ারির উইকেট। এই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি সঠিক সময়ে তুলে নেওয়ায় ম্যাচটা সহজ হয়ে যায় সিলেটের। এদিন সাইফ হাসানের একটি দুর্দান্ত ক্যাচও নিয়েছিলেন মইন।
মইনের কাছে সিলেট হল সেকেন্ড হোম। সিলেট দর্শকরা এতদিন মইনের কাছে যা আশা করেছিলো তার পুরোটা উজার করে দিয়ে ভক্তদের আশা মিটিয়েছেন। সামনের ম্যাচগুলোতেও যে মইন আলীর কাছে এমন পারফর্মেন্স আশা করবে দর্শকরা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
দিপ্ত পাল
সি স্পোর্টস


