মানুষ ফেরেশতা নই, তবে মানুষই তাই। এখানে মুশির শাশুড়ির কথা আর শ্বশুরের নামাজ পড়ার কথা যাবে।
এই ছবিটাই দেখুন না, এত মায়া মুখ আর এমন সুন্দর হাঁসি দেখে আপনি কিভাবে চোখ ফিরিয়ে নিবেন। ২৬ মে ২০০৫, লর্ডস টেস্ট শুরুর আগে অনুশীলন শেষে মুশি নিজের সব ক্রিকেট গেয়ারস নিয়ে ড্রেসিং রুমের দিকে যাচ্ছিলেন তখনই ধরা পড়েন ক্যামেরার চোখে। সকালের সূর্যই বলে দেয় দিন কেমন যাবে, ক্রিকেট আকাশে মুশফিকুর রহিম যেন সেই সকাল যিনি লর্ডসের আকাশে যেদিন প্রথম উদিত হয়েছিলেন সেদিনই জানান দিয়েছিলেন তিনি ইতিহাস গড়তেই এসেছেন। মুশি যখন লর্ডসের গ্রাউন্ডে প্রথম এই ফরমেটে শুরু করেছিলেন তার আগেই ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ছিল এ দেশের আনাচে কানাচে।
৯৬ আইসিসি ট্রফি জয় দিয়ে মানুষ ক্রিকেটকে আপন করে নিলেও, ক্রিকেটে চরম পাগলামি শুরু হয় কিছু ব্যক্তি মানুষের তারকা হয়ে উঠার মধ্যে দিয়েই। নিঃসন্দেহে মুশি তার একজন, তবে এত তারকা খ্যাতি নিয়েও প্রতিদিন নিজের কাজটি করে যাওয়া আর এতগুলো বছর ধারাবাহিক থেকে পারফর্ম করা এ কেবল যেন মুশির পক্ষেই সম্ভব। ধরে নেয়া যেতে পারে মুশিরা ক্রিকেটের দুই এবং তিন প্রজন্মের মাঝা মাঝি অবস্থানে, এই প্রজন্মের বেশ কজন ক্রিকেটার বিশ্বব্যাপী নিজেদের সমাধ্রিত করেছেন। লাল সবুজের পতাকা পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সারা বিশ্বের সব ক্রিকেট নেশনের কাছে। তবে বলা চলে তাদের কেউ এখন আর নেই বাইশ গজে, কিন্তু ভাগ্য মুশিকে এখনও রেখেছেন সেই একই জায়গায়।
তাতে যেন সবার কোন অভিযোগ নেই বরং মুশিকে নিয়ে সেই গর্বের কথাই প্রকাশ করেছেন সবাই। এমন ভাগ্য কি তবে ধর্মের প্রতি একটু বেশি আনুগত্য থাকা মুশির জন্য আল্লাহ পাকের উপহার, হয়তো তাই। তবে ধর্মপ্রাণ বাংলাদেশি হিসেবে ধর্মের আনুগত্য আমাদের সবারই আছে। তার পরও তামিম সাকিব মাহমুদুল্লা মাশরাফিরা যে ব্যক্তিগত ও অব্যক্তিগত অনেক কারনেই এমন অর্জনের সামর্থ্য রেখেও এখন আর নেই ক্রিকেটের সাথে। ভাগ্য মুশির সহায় হয়েছে, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ তম টেস্টের মালিক হচ্ছেন। এই দিনটি আরও বেশি স্পেশাল করে মুশি যে তার শততম টেস্টে শতকের দেখাও পেয়েছেন। যাকে বলে একশতে একশ, অভিনন্দন মুশি। এই খেলাটাকে এত বেশি আপন করে নেয়ার জন্য, এমন অর্জন আপনার জন্যই অপেক্ষা করছিল।




