হামজা-শমিতদের আগমনে বদলে গেছে বাংলাদেশ ফুটবলের চিত্র। মানুষ এখন স্টেডিয়াম যায়। হামজা-শমিতদের জন্য গলা ফাটায়। গ্যালারিতে দর্শকদের উত্তাল ঢেউ ওঠে লাল-সবুজের জয়ের জন্য। মৃতপ্রায় ফুটবল যেন গেল এক বছরে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
শক্তি বেড়েছে বাংলাদেশের। তবুও কেন ঘুরে ফিরে একই প্রতিপক্ষ, হয় নেপাল, না হয় ভুটান? আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশের পছন্দ কেন আটকে যায় তুলনামূলক কাছাকাছি মানের দলের দিকে। মালদ্বীপও যুক্ত হয় প্রায়। বিশ্বকাপ বা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব ছাড়া এশিয়ার বড় দলগুলোর বিপক্ষেও খেলার সুযোগ মেলে না। ভিন্ন মহাদেশের কোন দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন যেন বাফুফের জন্য দুঃসাধ্য কাজ। সে কারণে ফুটবল ভক্তদের মনে ভর করে বিষাদ।
ভক্তদের এমন অস্বস্তির মাঝে সুখবর, সমাধান নিয়ে আসছে ফিফা ওয়ার্ল্ড সিরিজ ২০২৬। নতুন এক আয়োজনের ঘোষণা ইতোমধ্যেই দিয়ে ফেলেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এক্ষেত্রে কম জনপ্রিয়, পিছিয়ে পড়া ফুটবলীয় দেশগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। ফ্রেন্ডলি ম্যাচেই মুখোমুখি হবে দলগুলো।
এখনও অবশ্য এই টুর্নামেন্টের পরিপূর্ণ ফরম্যাট পরিষ্কার করেনি ফিফা। তবে আয়োজক দেশগুলোর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে সংস্থাটি। অস্ট্রেলিয়া, আজারবাইজান, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্থান, মরিশিয়াস, পুয়ের্তো রিকো, রুয়ান্ডা ও উজবেকিস্তান- এই দেশগুলোতে আয়োজিত হবে পুরুষ দলের ম্যাচগুলো।
এছাড়া এই সিরিজের আওতায় মেয়েদের ম্যাচও আয়োজিত হবে। মেয়েদের ম্যাচগুলো আয়োজন করবে ব্রাজিল, আইভরি কোস্ট ও থাইল্যান্ড। গ্রুপে বিভক্ত করে, বিভিন্ন কনফেডারেশনের দলগুলোকে মুখোমুখি করা হবে একে অপরের। যাতে করে খেলোয়াড়, কোচদের সাংস্কৃতিক ও ফুটবলীয় কৌশলের উন্নতি ঘটে, সেই সাথে ফুটবলের জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পায়।
এখন প্রশ্নটা হচ্ছে এই আসরে বাংলাদেশ সুযোগ পাবে কি? এই বিষয়ে অবশ্য এখনও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশ ফুটবলের এই নবজাগরণ নিশ্চয়ই ফিফারও চোখ এড়ায়নি। তাছাড়া ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশি দর্শকদের অগাধ প্রেম গেল বিশ্বকাপেও তো নজর কেড়েছিল গোটা বিশ্বের।
এমন এক ফুটবল পাগল দেশের ফুটবলের উন্নতি নিশ্চয়ই চায় সর্বোচ্চ সংস্থাও। ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ানো, ফুটবলের বিস্তৃতি আরও ব্যাপক হোক- সে উদ্দেশ্যেই তো কাজ করে যাচ্ছে ফিফা। অতএব বাংলাদেশ যে এই সিরিজের আওতায় সুযোগ পাবে- সে সম্ভাবনা প্রবল। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন মহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ সৃষ্টি হবে বাংলাদেশেরও।
বিশেষ করে ইউরোপ ও আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে খেলার সুযোগ বাংলাদেশের কৌশলগত দিকে উন্নতি সাধনে দারুণ সহয়তা করতে পারে। তাছাড়া প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই ম্যাচগুলো অন্তত পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর ফুটবলে যুক্ত করবে ভিন্ন মাত্রা। বাংলাদেশের জন্যও তাই এই সিরিজ হতে পারে দূর্দান্ত এক প্রাপ্তি।
আগামী বছরের মার্চ ও এপ্রিলের ফিফা উইন্ডোতে আয়োজিত হবে ফিফা ওয়ার্ল্ড সিরিজ। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত দিকনির্দেশনা ফিফা প্রদান করবে ২০২৬ সালের শুরুর দিকেই। এখন বাংলাদেশের অপেক্ষা স্রেফ পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনার।







