চীনের ঠান্ডা বাতাসেও থামেনি বাংলাদেশের যুবারা। ধারাবাহিক দাপট দেখিয়ে টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থ ম্যাচেও জয় তুলে নিয়েছে। বাহরাইনকে ২-১ গোলে হারিয়ে এ গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও দৃঢ় করল গোলাম রব্বানি ছোটনের দল। এবার সামনে অপেক্ষাকৃত সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।
বাছাইপর্বে বাংলাদেশ শুরু থেকেই ছিল অপ্রতিরোধ্য। পূর্ব তিমুর, ব্রুনাই ও শ্রীলঙ্কাকে মোট ১৮ গোলে উড়িয়ে দিয়ে একটিও গোল খায়নি। তবে বাহরাইন ম্যাচটি আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল, শক্তিতে প্রতিপক্ষ এগিয়ে, সুযোগও ছিল দু’দলেরই, ফলে ম্যাচে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
টানা চতুর্থ জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা আরও জোরালো করল বাংলাদেশ। যদিও সামনে চীন বাধা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। পয়েন্ট তালিকায় ওপরে থাকা দল আগামী বছর মে মাসে সৌদি আরবে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে খেলার টিকিট পাবে।
চীনের ইয়ংচুয়ান স্পোর্টস সেন্টারে ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। তবে বাহরাইনের মনোযোগ ছিল রক্ষণে। বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদের তাই প্রতিপক্ষ গোলমুখে বারবার হতাশ হতে হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ করে বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত ৫৯ মিনিটে মিডফিল্ডার বায়েজিদ বোস্তামির গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৭২ মিনিটে মোহাম্মদ মানিক স্কোরলাইন ২-০ করেন। তবে ৮৫ মিনিটে বাহরাইনের জুহাইর ইবরাহিম গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখান। যোগ করা মিনিটে বাহরাইনের দুটি আক্রমণ ভেস্তে যায় বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের কারণে। শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাহরাইন।
১৬ দল নিয়ে আয়োজিত হবে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়া কাপ। এরই মধ্যে ৯ দল মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, বাকি ৭ দল বাছাইপর্ব থেকে যাবে। এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে দুবার আর অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে চারবার অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। কোনোবারই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি।
১২ পয়েন্ট নিয়ে এখন গ্রুপের সবার ওপরে বাংলাদেশ। তবে মূলপর্ব নিশ্চিত করা বাকি এখন চোখ ৩০ নভেম্বরের ম্যাচে, যেখানে স্বাগতিক চীনই হবে সবচেয়ে বড় বাধা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলেই আগামী বছরের মে মাসে সৌদি আরবে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত হবে লাল-সবুজদের।







