ক্রিকেট বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা হলেও অদ্যাবধি খেলাটি বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হয়নি। অন্তত ফুটবলের ন্যায় জনপ্রিয়তা ক্রিকেটের নেই। অন্যদিকে একটা জনপ্রিয় খেলা শুধু বাণিজ্যিক কারণেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সংশ্লিষ্ট জাতির মধ্যে সুস্থ শারীরিক-মানসিক চর্চার অভ্যাস গড়ে তুলতেও দারুণ কার্যকর। উপরন্তু জাতিতে জাতিতে দূরত্ব ঘুচিয়ে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও খেলার ভূমিকা অতুলনীয়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যার প্রভাব অস্বীকার করা যায় না।
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে সমগ্র বিশ্বে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টায় লিপ্ত। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি সিদ্ধান্ত কাঠগড়ায় দার করিয়েছে আইসিসির এই সমস্ত চেস্টাকে। মুস্তাফিজ এই বছরের আইপিএলে নির্বাচিত একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড়, যিনি শুধু বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার নন, বিগত কয়েক বছরের আইপিএলেও তাঁর পাফরম্যান্স সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছে। তদুপরি মুস্তাফিজ কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতেই আইপিএলে স্থান পেয়েছিলেন। বিসিসিয়াই এর নির্দেশে আইপিএল থেকে তার অপসারণের সিদ্ধান্ত নিছক জাতীয়তা বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে।
এরই জবাবে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ড দেখিয়েছে প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া , যেটা হওয়াটাই ছিল অত্যান্ত স্বাভাবিক। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিদ্দান্ত এসেছে জাতীয় দলকে ভারতে না প্রেরণের। বাংলাদেশ থেকে সম্প্রচার করা হবে না আইপিএলের লাইভ টেলিক্যাস্ট। ক্রিকেটে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে আর এর মুল কারন হিসেবে ভাবা হচ্ছে রাজনীতিকে।
সম্পর্কের তিক্ততার জের ধরে ক্রিকেটীয় কূটনীতি আর সম্পর্কে প্রভাব পড়ার নজির এতোদিন ছিল ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে। মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে হওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ভারত আর বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কও এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছালো, যা আবার কবে স্বাভাবিক হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান ক্রিকেটাররা অবশ্য খেলার সাথে রাজনীতিকে না মেলানোর জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন খেলাটাকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে রাখলেই সব দেশের জন্যই সেটা মঙ্গলের।
গত দেড় বছরের মধ্যে ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি হলেও দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে এতোদিন তার সরাসরি প্রভাব পড়েনি। তবে দুই বোর্ডের এবারের সিদ্ধান্তের পর হয়তো ক্রিকেটীয় বিবেচনাকে পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকেই প্রাধান্য দিতে হবে ভক্ত সমর্থকদের
দিপ্ত পাল
সি স্পোর্টস


