ক্রিকেট যদি বিনোদন হয়, তবে তিনি সেই বিনোদনের ফেরিওয়ালা। একটা সময় ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠ মাতিয়েছেন, আইপিএল খেলেছেন৷ ক্রিকেট ফেরি করতে যেন আবার এসেছেন বাংলাদেশে। তিনি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ডেভিড মালান।
বাংলাদেশের সঙ্গে তার সম্পর্কটা নতুন নয়, পুরনোই। তাইত এদেশের মাটির টানে বারবার ফিরে আসেন মালান। কখনো বাংলাদেশি কোন ক্রিকেট ভক্তকে হাসি মুখে দেন অটোগ্রাফও। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের নভেম্বরের বেশির ভাগ সময় আইসিসি টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই আছে সেঞ্চুরির কীর্তিও। কিন্ত এত অর্জন যার ক্যারিয়ারে তার শুরুর গল্পে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশও।
২০১৩–১৪ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাঁর দল ছিল প্রাইম দোলেশ্বর। বিপিএল খেলছেন ২০১৬ সাল থেকে।
বরিশাল বুলস, কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স, খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতাও আছে।
মালানের আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে তাই বিপিএলেরও অবদান আছে।আর সেই কৃতজ্ঞতা মালান স্বীকারও করেন।
সাক্ষাৎকার একবার নিজেই বলেন ” বিপিএল সব সময়ই উপভোগ করি। আমার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের টুর্নামেন্ট এটি। এখানে খেলেই আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও খেলেছি। দুটি টুর্নামেন্টই আমার খেলায় উন্নতি আনতে সাহায্য করেছে। সে জন্যই বাংলাদেশে আসার কোনো সুযোগই আমি হাতছাড়া করি না।’
এবারের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলছেন মালান।
বিপিএলে সর্বোচ্চ রান করার দিক দিয়ে ৩ নাম্বারে আছেন
তিনি। তিনি রংপুর রাইডার্সের হয়ে ৫ ম্যাচে করেন ১৯৬ রান। মালান ধুম ধাড়াক্কা ব্যাটিং করতে ভালোবাসেন। এবারের বিপিএল এখন পর্যন্ত ২১ চারের সঙ্গে মেরেছেন ৫ টা ছক্কা।
ক্রিকেটটা শৈশব থেকেই ভালোবাসেন ডেভিড মালান।
১৯৮৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের রোহ্যাম্পটনে জন্ম তার। বাবার জন্মস্থান এবং ক্রিকেটের হাতেখড়ি দক্ষিণ আফ্রিকায় হওয়াতে মালানের ১৯ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকও ঘটে সেখানে। সেখান থেকে আবার ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে খেলা, আন্তর্জাতিক তারকা হয়ে ওঠা।এক জীবনে কম অর্জন নয় মালানের।
ইংল্যান্ডের হয়ে ২২টি টেস্ট, ৩০টি ওয়ানডে ও ৬০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।সব সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৪৪১৬ রান; ৮টি শতক ও ৩২টি ফিফটি আছে l
খেলেছেন ২০২১ ও ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর মালান এখন টি টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা হয়ে বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়ান। বাংলাদেশেও এসেছেন ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা হয়ে। এদেশের মানুষের ভালোবাসায় বারবার আপ্লুত তিনি।
মালানের জীবনে অর্জন অনেক। তবে সেই অর্জনের শুরুর গল্পে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। তাইত লাল সবুজের দেশকে ভীনদেশি হয়েও হৃদয়ে ধারন করেন তিনি। এভাবেই এক টুকরো বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে মালানের মনে।
দিবাকর বিশ্বাস, সি স্পোর্টস, ঢাকা


